Latest Releases

Saturday, December 3, 2016

টাঙ্গাইলের মোহেরা জমিদার বাড়ি

সম্ভাব্য ভ্রমণের তারিখ আগামী ২৩ ডিসেম্বর রোজ শুক্রবার গন্তব্য ঢাকার দক্ষিন বাড্ডা থেকে শুরু করে সাভারের সাপের বাজার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পাখি দর্শন, স্মৃতি সৌধ, মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ি হয়ে টাঙ্গাইলের মোহেরা জমিদার বাড়ি পর্যন্ত


At last আমার পথ আমিই খুঁজে বের করে নিলাম। চেষ্টা থাকবে ভ্রমণটা এক দিনে শেষ করে আসতে। এক্ষেত্রে আল্লাহর কৃপা আবশ্যক


গতকাল রাতে "সাভারের সাপের" বাজার বিষয়ে তথ্য চেয়ে TOB পোষ্ট করে কিছুই জানতে পারিনি। তাই গুগলকেই আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করতে হল। আর তার ভিত্তিতেই নিজের মত একটি পরিকল্পনা করে ফেললাম। নিচের অনভিজ্ঞ সম্ভাব্য ভ্রমণ বিবরণ থেকে যদি কেউ ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করেন অথবা উত্তম কোনও পরামর্শ দেন তাহলে কৃতজ্ঞ হব।


সকালে .৩০ টায় দক্ষিন বাড্ডা থেকে বের হয়ে গাবতলী হয়ে "সাভারের পোড়াবাড়ি" (গুগল অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যমতে এখানেই সাপের বাজার অবস্থিত) পৌঁছে যাব সাড়ে টার মধ্যে। পোড়াবাড়ি যেতে হলে বাস থেকে নামতে হবে সাভারের রেডিও কলোনি বাস স্ট্যান্ডের খানিকটা আগে। ওখান থেকে কিছু একটায় চড়ে "পোড়াবাড়ি" আশা করি সেখানে সাপ কেনা-দেখা শেষ করবো টার মধ্যে (যদিও প্রতিদিন বাজারে সাপ উঠে কিনা তার বিষয়ে জানা নেই) সাপ কিনবো, সে সাপ - যে সাপের চোখ নেই, শিং নেই, নোখ নেই, ছোটে না কি হাঁটে না, কাউকে যে কাটে না, করে না কো ফোঁসফাঁস মারে নাকো ঢুসঢাস, নেই কোন উৎপাত, খায় শুধু দুধভাত......


সকাল .৩০ এর মধ্যে পোড়াবাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করবো অতিথী পাখিদের অভয়ারণ্য "জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের" পথে। আশা করি ৩০ মিনিটের মধ্যে অর্থাৎ সকাল ১০ টার মধ্যেই পাখিদের সাথে উৎসবে মেতে উঠতে সক্ষম হব। ওখানে পাখি, ক্যাম্পাস আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের গ্রামের মেঠো পথের জন্য সময় ধরে রাখলাম ঘণ্টা। বাজলো তবে ১২ টা।


তার পর দুপুর ১২ টায় বের হয়ে চলে যাব জাতির গর্ব স্বাধীনতার কারিগর বীর শহীদদের শ্রদ্ধায় নির্মিত "জাতীয় স্মৃতি সৌধ" দেখতে। আশা করছি, জাহাঙ্গিরনগর থেকে নবীনগর যাওয়া, স্মৃতি সৌধ ঘুরে দেখা, শহীদদের কবর জিয়ারত করা, জুম্মার নামাজ আদায় এবং দুপুরের খাওয়া শেষ করে ফেলব দুপুর .১৫ / .৩০ টার মধ্যে।
 


তার পর গন্তব্য মানিকগঞ্জের "বালিয়াটি জমিদার বাড়ি" মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অবস্থিত "বালিয়াটি জমিদার বাড়ি" যেতে গুগল ম্যাপের হিসেবে প্রাইভেট কারে ৫৪ মিনিট লাগবে। বাস, অটো ইত্যাদি মিলিয়ে আশা করি বিকেল চারটা নাগাদ "বালিয়াটি" পৌঁছে যাব। তার পর জমিদারের জমিদারী দর্শনের পর ফিরতি যাত্রা সন্ধ্যা টার মধ্যে আরম্ভ করা সম্ভব হবে বলেই মনে করছি। এখানেই আলবিদা এই অঞ্চল ভ্রমণের।


তবে, হ্যাঁ একটা "তবে" রয়েছে মনে মনে। যদি হিসেব নিকেশ ঠিক না থেকে সময় বেঁচে যায় আর কোনও রকমভাবে দুপুর তিনটার মধ্যে সাটুরিয়া পৌঁছে যাই তবে ওখানে একটু তাড়াহুড়ো করে শেষ করে টাঙ্গাইল মোহেরা জমিদার বাড়ি চলে যাব। দুই জমিদারের জমিদারি দেখার আশাটা যদি পূরণ হয়েই যায় তাহলে ভালোই লাগবে।


আশু পরামর্শ সহযোগিতার অপেক্ষায়।
ধন্যবাদ
https://www.google.com/maps/dir/South+Badda+Road,+Dhaka,+Bangladesh/Porabari,+%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%9F+%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE+%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A1,+Savar,+Bangladesh/Jahangirnagar+University,+Savar,+Bangladesh/National+Martyr's+Monument,+Dhaka+-+Aricha+Highway,+Savar,+Bangladesh/Baliati+Palace,+Baliati,+Dhaka+Division,+Bangladesh/Mohera+Jomidar+Bari,+Dhaka+-+Tangail+Highway,+Mirzapur,+Bangladesh/@23.9826158,90.2327715,11z/data=!4m48!4m47!1m5!1m1!1s0x3755c785426dda69:0xe0d46711f634bea9!2m2!1d90.4179861!2d23.7730355!1m5!1m1!1s0x3755e97c41e2a709:0xb51d1ee6bfca13dc!2m2!1d90.2558827!2d23.8627234!1m5!1m1!1s0x3755e99900000001:0x6c86d96d51ae677b!2m2!1d90.2690466!2d23.8790605!1m15!1m1!1s0x3755e8fb9aa0707f:0x7f247dcf3afffae9!2m2!1d90.2547197!2d23.911216!3m4!1m2!1d90.1200845!2d23.8832328!3s0x3755f1bd303412ff:0x5c834d29c7417fc6!3m4!1m2!1d90.1629138!2d23.8443403!3s0x3755ede85f19c3fb:0x223ed06448d7bdf3!1m5!1m1!1s0x3755f9aea7e72a8f:0x4831609aaed0cad3!2m2!1d90.0423749!2d23.9946817!1m5!1m1!1s0x3756008c0f0a122b:0x8f58b887f00e03b2!2m2!1d90.0424225!2d24.1626199!3e0
Read »

Wednesday, November 30, 2016

আলাদিন’স পার্ক,ফুলবাড়ীয়া ময়মনসিংহ

লালমাটি এলাকার উচুঁ নিচু রাস্তা ধরে ঘন সবুজ প্রকৃতি পেরিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বেতবাড়ি গ্রামে পৌঁছলে প্রথমেই নজরে পড়বে দৃষ্টিনন্দন পাথরে মোড়ানো আলাদিন্স পার্কের বিশাল ফটক। শ্বেত ও মার্বেল পাথরে মোড়ানো ফটকের সামনে দৃষ্টি নন্দন ফোয়ারা। প্রধান ফটক অতিক্রমের পর বিশাল গুহা পেরিয়ে সামনে এগোতেই চোখে পড়বে সারি সারি তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে।
পরিকল্পিতভাবে কাটছাঁট করা সমতল লাল পাহাড়ের ২০ একর জমির পুরোটাই যেন কোন শিল্পীর রঙ্গীন তুলিতে আঁকা ছবির সারি। পাহাড়ের উপর পাহাড়, সমতল ভূমির উপর কৃত্রিম পাহাড়, তাল-সুপারি ও পামের বৃক্ষরাজি, পাহাড়ের টিলা, ঝর্ণাধারা, স্বচ্ছজলের কৃত্রিম লেকে বক আর রাজহাঁস পালের জলকেলীতে মাতামাতি।

ঘন-সবুজের ছায়া ঘেরা শীতল পরিবেশের আঁকাবাঁকা পথের ফাঁকে ফাঁকে শ্বেত পাথরের মনকাড়া সব ভাস্কর্য। লেকের উপর গড়ে তোলা ছুঁ ছুঁ টিলায় উঠে কিংবা প্যাডেল বোটে লেকের বুকে ভেসে হিম শীতল বাতাসের পরশে গা জুড়ানো।
ন্যাচারাল বাঁশ বাগান, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের গরুর গাড়ি, মিনি চিড়িয়াখানায় শিয়াল, মেছো বাঘ ও হনুমানসহ বিচিত্র পশুপাখি এবং প্রাণীর জীবন্ত সংগ্রহশালা।
শিশুদের জন্য রয়েছে ড্রাগন, ড্রাইনোসর, বাঘ, ঘোড়া, হাতি ও সিংহের মূর্তি। শিশু-কিশোরদের বিনোদনে রয়েছে দুরন্ত গতির ইলেক্টনিক ট্রেন, ওয়ান্ডার হুইল, কিডি রাইডস, ভয়েজার বোট, রকেট।
এছাড়াও ওয়াটার পার্ক, সুইমিংপুল, থ্রিডি মিনি সিনেমা হল, ৫’শ আসনের অডিটরিয়াম, স্যুটিং স্পট, রিসোর্টে বসেই বড়শি দিয়ে মাছ শিকারসহ কিছু প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্য্যের সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন কৃত্রিম বাহারি সৌন্দর্যের এক অসাধারণ সমন্বয়ের প্রতীক আলাদিন্স পার্ক।
ফুলবাড়িয়ায় দক্ষিণপ্রান্তে লালমাটির পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে আলাদিন্স পার্ক। ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দুরে। ভালুকা উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের হাতিবেড় গ্রামের কুমির চাষ প্রকল্প,ফুলবাড়িয়ার কাহালগাঁও গ্রামের অর্কিড ফুলচাষ কেন্দ্র এবং টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার তমালতলা গ্রামের শ্রীকৃষ্ণ-রাধার গোপন অভিসারের গুপ্ত বৃন্দাবনের কয়েক মাইলের মধ্যে ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের বেতবাড়ি গ্রামে বিশাল ‘ক্যানভাসে গড়ে উঠেছে এ পার্ক।
ময়মনসিংহের লালমাটির জনপদ ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিনোদন কেন্দ্র আলাদিন্স পার্কের রূপ সৌন্দর্য দেখতে বছর জুড়ে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতি প্রেমিক সৌন্দর্য পিপাসুরা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা : রয়েছে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখানে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে। আলাদিন্স পার্কের ম্যানেজার আব্দুল আজিজ বলেন, এখানে যারা বেড়াতে আসেন, তাদের নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব এখানে যারা কর্মরত আছেন তাদের।
প্রবেশ মূল্য : প্রবেশ মূল্য ১০০টাকা। এছাড়া ভিতরের প্রতিটি রাইডের জন্য আলাদা করে ৩০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দিতে হয়। ৫ বছরের নীচের বাচ্চাদের জন্য ৭টি রাইডার্স ফ্রি।
থাকা-খাওয়া : রয়েছে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও। প্রতিদিন কর্টেজ ভাড়া হচ্ছে, এসি ডিলাক্স ৪ হাজার টাকা, এসি ৩ হাজার টাকা ও নন এসি ২ হাজার টাকা। পিকনিক প্যাকেজ হচ্ছে প্রবেশসহ সকল রাইডর্স এবং দুপুরের খাবার কর্পোরেট বা ফ্যামিলি জনপ্রতি ৫’শ টাকা। কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রতি ৪’শ টাকা। আর ১০ বছরের নীচে শিশুদের জন্য জন প্রতি ৩৫০টাকা।
এ সংক্রান্ত হেল্পলাইন, ফোন: ০২-৮৯৫৮৬১২, মোবাইল: ০১৮৩১-০০৩০৫৫, ০১৮৩১-০০৩০৬৪।
যেভাবে যাবেন : ময়মনসিংহ শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার এবং ফুলবাড়িয়া সদর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এই পার্ক। রেলযোগে ঢাকার কমলাপুর ও এয়ারপোর্ট ষ্টেশন থেকে আন্তঃনগর তিস্তা, অগ্নিবীণা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে ময়মনসিংহ শহরে যাওয়া যায়। ময়মনসিংহ থেকে সিএনজি, বাস বা কার যোগে আলাদিন্স পার্কে যাওয়া যায়।
ঢাকা থেকে ৩ ঘন্টার পথ। মহাখালী বাসষ্ট্যান্ড থেকে বাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা মোড় থেকে আলাদিন্স পার্কে যাওয়া যায়। মাত্র ২০ মিনিটের পথের দুরত্ব ভরাডোবা মোড় থেকে আলাদিন্স পার্ক। ময়মনসিংহ শহর হয়েও এ পার্কে যাওয়া যায়।
সমস্যা : ফুলবাড়িয়া-সাগরদিঘি সড়ক থেকে আলাদিন্স পার্কে যেতে যে ৫০০মিটার দীর্ঘ সড়কটি রয়েছে তা একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। বৃষ্টিতে সড়কের ইট-সুড়কি উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ১৫ ফুট চওড়া এই সড়ক দিয়ে ২টি গাড়ি ঠিকমত চলতে পারে না। এছাড়া এ পার্কে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নেই। জেনারেটরের বিদ্যুতেই দর্শনার্থীদের একমাত্র ভরসা।
আলাদিন্স পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলাউদ্দিন জানান, প্রতিবছর নভেম্বর থেকে এখানে মৌসুমী পিকনিক পার্টি আসা শুরু করে চলে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময় দর্শনার্থীদের বিপুল সমাগম ঘটে।
আলাদিন’স পার্কের বিস্তারিত তথ্য জানতে যোগাযোগ: ০১৬৭৭৫৭৬৮৬৮, ০১৬১০৫৫৫০১১-৩৩ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন৷ অথবা ভিজিট করতে পারেন: www.mobilekinbapricebd.com
Read »

Wednesday, November 23, 2016

এই শীতে হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর আর বাইক্কার বিলে

উপরে নীল আকাশ, চারদিকে শান্ত জলরাশি। স্বচ্ছ নদীমাতৃক বাংলাদেশের অপরূপ প্রতিচ্ছবি। নৌকা নিয়ে গোটা বিল চষে বেড়ানো, পাশেই উড়ন্ত বড় বকের ঝাঁক, নিচে বসা কালো লেজ জৌরালি ও দাগিলেজ জৌরালির ঝাঁক। চারপাশ জুড়ে চেনা-অচেনা পাখিদের মিলন মেলা শীতের ভ্রমণের অন্যতম এক আকর্ষণ। শীতের সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে উড়ে আসা পাখিদের কলতানে মুখরিত হয়ে থাকে আমাদের দেশের এসব হাওর অঞ্চল। শীতের সময়ে এসব হাওরের রূপ-বৈচিত্র্য দেখার জন্য ঘুরে আসতে পারেন।

এশিয়ার বৃহৎ হাকালুকি হাওর (Hakaluki Haor) বাংলাদেশের একটি অন্যতম বৃহৎ মিঠা পানির জলাভূমি। পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড় ও পূর্বে পাথারিয়া মাধব পাহাড় পবষ্টিত হাকালুকি হাওর সিলেট (Sylhet) ও মৌলভীবাজার (Moulvibazar) জেলার ৫ টি উপজেলায় বিস্তৃত। ছোট বড় প্রায় ২৩৮টির ও বেশী বিল ও ছোট বড় ১০টি নদী নিয়ে গঠিত হাকালুকি হাওর বর্ষাকালে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর এলাকায় পরিণত হয়।
বর্ষাকালে বিস্তৃত জলরাশি এ হাওরের রূপ ঠিক যেন ভাসমান সাগর। আদিগন্তু বিস্তৃত জলরাশি। জলের মাঝে মাঝে দুই-একটি বর্ষীয়ান হিজল, তমাল বৃক্ষ। অথচ শীতকালে বিস্তৃত এই হাওর ধু-ধু সবুজপ্রান্তর, কোথাও বা ধান ক্ষেত এবং খানাখন্দ নিচু ভূমিতে প্রায় ২৩৮টি বিলের সমষ্টি। হাকালুকি হাওর মাছের জন্য প্রসিদ্ধ। হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সংরক্ষিত জলাভূমি। শীত মৌসুমে এশিয়ার উত্তরাংশের সাইবেরিয়া থেকে প্রায় ২৫ প্রজাতির হাঁস এবং জলচর নানা পাখি পরিযায়ী হয়ে আসে। এছাড়া স্থানীয় প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি সারাবছর এখানে দেখা মেলে। ধু-ধু প্রান্তরের এই চারণভূমি ও বিলগুলো মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পরিযায়ী পাখির কলকাকলি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটককে দুর্বার আকর্ষণে রোমাঞ্চের হাতছানি দেয়। হাকালুকি হাওরে পরিযায়ী হাঁসের মধ্যে চখাচখী, রাজসরালী, গরাদমাথা রাজহাঁস, ধলাবেলে হাঁস, গাডওয়াল, ইউরেসীয় সিথীহাঁস, টিকিহাঁস, পাতিহাঁস ম্যার্গেঞ্জার প্রভৃতির দেখা মেলে। দেশি প্রজাতির মধ্যে বেগুনি কালেম, পানমুরসী, পাতিকুট, ডাহুক, ইউরেশীয় মুরগি চ্যাগা, ল্যাঞ্জা চ্যাগা, রাঙ্গাচ্যাগা, জলাপিপি, ময়ূরলেজা পিপি, পাতি জিরিয়া,  হাট্টিটি, ভূবনচিল, শঙ্খচিল, বিলুপ্ত প্রায় কুড়াল ঈগল, বড়খোঁপা ডুবুরি, ছোট পানকৌড়ি, খয়রা বক, ধূসর বক, শামুক খোল প্রভৃতি পাখি অন্যতম। হাকালুকি হাওরে অনেক প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। চিতল, আইড়, বাউশ, পাবদা, মাগুর, শিং, কৈ প্রভৃতি মাছ এখানে রয়েছে। জলজ উদ্ভিদের মধ্যে বিলুপ্ত প্রায় মাকনা হাওর অঞ্চলের পুটি, হিঙ্গাজুর, হাওয়া প্রভৃতি বিলে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যমান। এছাড়া শাপলা, শালুক, পদ্ম প্রভৃতি জলজ উদ্ভিদ ও আশাব্যঞ্জকহারে এখানে রয়েছে।
কিভাবে যাবেন ?
ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে সরাসরি সিলেটে যেতে হবে। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহন পেয়ে যাবেন। ভাড়া পড়বে ৩৫০-৫০০ টাকা। এ ছাড়া কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার ছাড়া প্রতিদিনই পেয়ে যাবেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১৫০-৭০০ টাকা। সিলেট শহর থেকে যে কোনো স্থানেই ভ্রমণের জন্য বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, রিকশা পেয়ে যাবেন।

এই শীতে হাকালুকি হাওর, টাঙ্গুয়ার হাওর আর বাইক্কার বিলে

উপরে নীল আকাশ, চারদিকে শান্ত জলরাশি। স্বচ্ছ নদীমাতৃক বাংলাদেশের অপরূপ প্রতিচ্ছবি। নৌকা নিয়ে গোটা বিল চষে বেড়ানো, পাশেই উড়ন্ত বড় বকের ঝাঁক, নিচে বসা কালো লেজ জৌরালি ও দাগিলেজ জৌরালির ঝাঁক। চারপাশ জুড়ে চেনা-অচেনা পাখিদের মিলন মেলা শীতের ভ্রমণের অন্যতম এক আকর্ষণ। শীতের সময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে উড়ে আসা পাখিদের কলতানে মুখরিত হয়ে থাকে আমাদের দেশের এসব হাওর অঞ্চল। শীতের সময়ে এসব হাওরের রূপ-বৈচিত্র্য দেখার জন্য ঘুরে আসতে পারেন।
কিভাবে যাবেন ?
ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে সরাসরি সিলেটে যেতে হবে। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহন পেয়ে যাবেন। ভাড়া পড়বে ৩৫০-৫০০ টাকা। এ ছাড়া কমলাপুর থেকে মঙ্গলবার ও বুধবার ছাড়া প্রতিদিনই পেয়ে যাবেন পারাবত এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১৫০-৭০০ টাকা। সিলেট শহর থেকে যে কোনো স্থানেই ভ্রমণের জন্য বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, রিকশা পেয়ে যাবেন।



কোথায় থাকবেন ?
এসব হাওরের আশপাশে থাকার জন্য তেমন কোনো ভালো ব্যবস্থা নেই। সারা দিন বেড়ানোর পর সিলেটের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল শহরসহ আশপাশে অনেক হোটেল-মোটেল বা রিসোর্ট পাবেন। এসব হোটেল-রিসোর্টে ৫০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়ায় রুম পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের একটি অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি। পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড় ও পূর্বে পাথারিয়া মাধব পাহাড় বেষ্টিত হাকালুকি হাওর সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার পাঁচটি উপজেলায় বিস্তৃত। ছোট-বড় প্রায় ২৩৮টিরও বেশি বিল ও ছোট-বড় ১০টি নদী নিয়ে গঠিত হাকালুকি হাওর বর্ষাকালে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর এলাকায় পরিণত হয়। থই থই জল আর হিজল বনের রূপকথার গন্ধ মিলবে হাকালুকিতে। ঘন কুয়াশার সকাল, তপ্ত দুপুর আর লাল গোধূলি এখন এই অপরূপের দেশে। ধানের ক্ষেত হাওয়ায় দোলে, জলাশয়ে ছোট্ট ডিঙি, রাখালের গরুর পাল নিয়ে হেঁটে চলা এ যেন সেই বাংলা, যা হারিয়ে যেতে বসেছে।
হাকালুকি হাওরে রয়েছে ২৭৬টির মতো ছোট-বড় গভীর-অগভীর বিল। কোন দিকে যে তার শেষ, হদিস করা যায় না। মাঝেমধ্যে সদ্য যৌবন পাওয়া হিজল বন। শিয়াল আর মেছো বিড়ালের বাড়ি এখানে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে হাকালুকি বিখ্যাত পাখির জন্য। বিশেষ করে শীতের পাখি।
হাকালুকি হাওরকে জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডারও বলা যায়। বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী পাওয়া যায় এই হাওরে। হাওরে ৫২৬ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১১২ প্রজাতির অতিথি পাখি, ৩০৫ প্রজাতির দেশীয় পাখি, ১৪১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ১০৭ প্রজাতির মাছের দেখা মিলবে। হাওয়াবন্যা ছাড়াও হাওরখাল বিল ও পিংলা বিলে হাজার হাজার পাখির দেখা মিলবে।
সবচেয়ে বেশি হাঁস দেখা যায় হাওরখাল বিলে। একসাথে এত হাঁস বসে থাকে যে টেলিস্কোপ লাগিয়েও গোনা যায় না। এগুলোর মধ্যে উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস, উত্তুরে খুন্তেহাঁস, গাডওয়াল হাঁস, খয়রা চকাচকি, পাতি চকাচকি, ফালকেট হাঁস, গিরিয়া হাঁস ও টিকি হাঁস অন্যতম।
মেঘালয়ের সুবিশাল ও বিস্তৃত পাহাড়ের হাজারো ছড়া ও বেশ কিছু ঝরনা হলো টাঙ্গুয়ার হাওরের পানির উৎস। শীতকালে এই হাওরে অনেক কান্দা বা পাড় জেগে ওঠে। পুরো হাওর অনেক বিলে ভাগ হয়ে যায়। তবে বর্ষাকালে এই হাওর যেন এক বিশাল সমুদ্র। আর সেই সমুদ্রের উত্তর পারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়।





Read »

Copyright © 2015 Tourist Spots of Bangladesh || Blog for visiting, Traveling bangladesh

Designed by Templatezy | Distributed By Blogger Templates